February 27, 2024

শবে কদরের / লাইলাতুল কদরের নামাজের নিয়ম – কিভাবে পড়বো | purepdfbook

লাইলাতুল কদরের নামাজের নিয়ম

লাইলাতুল কদরের নামাজের নিয়ম, শবে কদরের নামাজের নিয়ম, শবে কদরের ইবাদতের নিয়ম, লাইলাতুল কদরের নামাজ কিভাবে পড়বো, লাইলাতুল কদরের ইবাদত, লাইলাতুল কদরের দোয়া ও যিকির, লাইলাতুল কদরের আমল, লাইলাতুল কদরের আমল সমূহ, লাইলাতুল কদরের মোনাজাত, লাইলাতুল কদরের ব্যাখ্যা

শবে কদরের / লাইলাতুল কদরের নামাজের নিয়মঃ

শবে কদরের নামাজ দুই রাকআত করে চার রাকআত পড়তে হয়। এরপর যত ইচ্ছা নফল নামাজ পড়া যায়। এই নামাজের প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর একবার সূরা কদর ও তিনবার সূরা ইখ্‌লাস পড়তে হয়।

নামাজ শেষে নিচের দোয়াটি, কমপক্ষে একশত বার পড়া উত্তমঃ

“সুব্‌হানাল্লাহি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর, লা হা’ওলা কুয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহিল্‌ আলীয়্যিল আযীম”।

শবে কদরের / লাইলাতুল কদরের নামাজ  কিভাবে পড়বোঃ

কমপক্ষে ৮ রাকাত পড়তে হবে, এরপর আপনি যতোবেশী পড়তে পারবেন ততোই উত্তম, সারারাত পড়তে পারলে খুবই ভালো, মোটকথা সর্বনিম্ন ৮ রাকাত থেকে যত রাকাত প্রযন্ত সম্ভব পড়বেন।

নামাজ পড়ার জন্য আপনি চাইলে বাংলায় নিয়ত করতে পারেন, তবে আরবিতে নিয়ত করাই উত্তম। নিয়ত টি হলোঃ “নাওয়াইতু আন্‌ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকআতাই সালাতিল লাইলাতিল কাদ্‌রি নফ্‌লে মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি  আল্লাহু আকবর”।

নিয়ত টি হলোঃ “আমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শবে কদরের দুই রাকআত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম আল্লাহু আকবর”।

এরপর সূরা ফাতিহার সাথে আপনার জানা যেকোনো সূরা মিলিয়ে পড়লেই চলবে। (বর্তমানে বাজারে প্রচলিত কিছু বইতে ৩৩ বার সূরা আল্ কদর, ৩৩ বার ইখলাস ইত্যাদি উল্লেখ করে অহেতুক জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে।) এগুলো কেউ কান দিবেননা ভালোভাবে না জেনেশুনে, আলেমরা রয়েছে, তাদের কাছে জিঙ্গেস করবেন। এছাড়াও আমরা আদিকাল থেকে যেভাবে দেখে এসেছি পড়তে সেভাবে পড়লেও সমস্যা হবেনা, কিন্তু ভালোভাবে নিশ্চিত হয়ে নতুন নিয়মে যেতে হবে। আমি কি বুঝাতে পেরেছি ভাই?

নামাজ শেষে যে দোয়াটি পড়বেনঃ

“সুব্‌হানাল্লাহি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর, লা হা’ওলা কুয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহিল্‌ আলীয়্যিল আযীম”।

(উপরের এই দোয়াটি চার রাকাত নামাজ পড়ার পরে কমপক্ষে একশত বার পড়া উত্তম।)

আপনি এ রাতে সালাতুল হাজত, সালাতুল তাওবা, সালাতুল তাসবিহ নামাজও আপনি পড়তে পারেন। এগুলোর নিয়ম আপনি ইন্টারনেটে সার্চ করে বা হুজুরের কাছ থেকে বা মাসয়ালার বইগুলো পড়লে পাবেন।
রাতের শেষভাগে কমপক্ষে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার চেষ্টা করবেন। এর কারণ এ নামাজ সর্বশ্রেষ্ঠ নফল নামাজ। আর রাতের এ অংশেই কিন্তু  দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক অনেক বেশী থাকে।

জিকির ও দোয়াঃ

হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
একদা আমি রাসূল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহর রাসূল আমি যদি কদরের রাত সম্পর্কে অবহিত হতে পারি তবে আমি কি করব? তখন রাসূল (সা.) আমাকে এই দুয়া পাঠ করার জন্য বললেনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি”। (“তিরমিজি, হাদিস নং: -৩৫১”)

অর্থঃ “হে আল্লাহ তুমি বড়ই মাফ করনে ওয়ালা এবং বড়ই অনুগ্রহশীল। মাফ করে দেয়াই তুমি পছন্দ কর। অতএব তুমি আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দাও।”

এছাড়াও হাদিসে যে সকল দোয়া রয়েছে, যেগুলো পড়লে অনেক বেশী সওয়াব পাওয়া যাবে এবং নিজেকে পাপমুক্ত করা যাবে এমন দোয়া গুলো পড়তে পারেন।
 দরুদ ও ইস্তেগফার আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয় তাই ১০০ বার দরুদ ও ১০০ বার ইস্তেগফার পড়তে পারেন সাথে।

নফল নামাজ কে কতো রাকাত পড়তে পেরেছেন এরকম কম্পিটিশন (প্রতিযোগিতা) না করে, কে কতো সুন্দর করে নামাজ পড়তে পেরেছেন সেটিতে মনোযোগ দিবেন আশাকরি।

(ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)