February 28, 2024

কুটু মিয়া PDF Download | হুমায়ূন আহমেদের pdf বই

kutu-mia-pdf

কুটু মিয়া – হুমায়ন আহমেদ – Kutu Mia Bangla Pdf Book Free Download | pdf size: 7 mb | total page: 112.

কুটু মিয়া বই রিভিউঃ

 আলাউদ্দিন সাহেব রিটায়ার্ড শিক্ষক। নেত্রকোনার এক কলেজে ইতিহাস পড়াতেন। রিটায়ার্ড করার পর ঢাকায় এসেছিলেন কোচিং এর খোঁজে। এখানে এক গার্মেন্টস কোম্পানির ম্যানেজার সাইফুদ্দিন সাহেবের সাথে একটা ফ্লাট ভাগাভাগি করে আছেন। কোচিং না পেলেও তিনি এখন পেশাদার লেখক। তিনি মুক্তি প্রকাশনীতে ছদ্মনামে কিছু বই লিখছেন।

আসলে তিনি বিভিন্ন বই থেকে নকল করে পাণ্ডুলিপি তৈরি করে প্রকাশক হাজী একরামুল সাহেবের কাছে দেন। তিনি বিভিন্ন লেখকের নামে তা ছাপিয়ে দেন। একদিন আলাউদ্দিনের কাছে একজন অদ্ভুত মানুষ আসে। কুটু মিয়া। আলাউদ্দিন সাহেবেরও একজন কাজের লোক লাগত। তাই রেখে দেন কুটু মিয়াকে। কুটু মিয়ার কোনো কিছুই ইয়াদ নেই।

বউ, বাচ্চা কারো নামই মনে নেই। দেখতেও অদ্ভুত। বা চোখে দেখতে পায় না। চুল থেকে হাতের নখ সবই বড়। অদ্ভুত একটা মানুষ। কিন্তু তার রান্নার হাত অনেক ভালো। যেটাই রান্না করে যেন অমৃত। খুব দ্রুতই তাকে পছন্দ করে ফেলেন আলাউদ্দিন। নানান ধরনের রান্না করে খাওয়ায় সে। এর আগে এক পাইলট সাহেবের কাছে কাজ করত সে। একদিন প্রকাশক একরামুল সাহেব আলাউদ্দিনকে একটা প্রস্তাব দেন।

 একরামুল সাহেবের বিধবা এক ভাগ্নি আছে। হামিদা। যার দুই মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে। একা মানুষ। তাই একরামুল সাহেব তাকে প্রস্তাব দেয়। আলাউদ্দিন কি করবেন বুঝতে পারেন না। একরামুল সাহেব তাকে এক অজুহাতে নিয়ে যান হামিদা বেগমের বাড়ি। হালিমা বুঝতে পারে। হামিদার বিয়েতে মত নেই। এসব আলোচনার মাঝে আলাউদ্দিনের মন নেই। আলাউদ্দিনের মন পরে থাকে কুটু মিয়ার রান্না করা খাবারে।

কখন বাড়ি যাবেন আর কখন খাবেন সেই অমৃত। কুটু মিয়ার সাথে নানা বিষয়ে কথা হয় আলাউদ্দিনের। কথা হয় সেই পাইলট সাহেবকে নিয়ে, কথা হয় কুয়েতে যে শেখের বাড়িতে কুটু কাজ করত তাকে নিয়ে। কুটু বলে তাদের খাবার-দাবার, আরাম আয়েশের কথা। কুটু মিয়া তাকে অনেক উপদেশও দেয়। পরোক্ষভাবে কুটু মিয়া আলাউদ্দিনকেই যেন কন্ট্রোল করছে। একদিন সাইফুদ্দিন সাহেব এসে জানায় তার বাবাকে সে ঢাকা নিয়ে আসবে তাই আলাউদ্দিনকে ফ্লাট ছাড়তে হবে।

 কিন্তু পরদিন রহস্যজনকভাবে মারা যায় সাইফুদ্দিন। এভাবেও কাটছিল আলাউদ্দিনের সুখের দিন। সারাদিন শুয়ে বসে থাকা, কখনো বা গোসল করতে করতে নিষিদ্ধ পানীয় পান করা, আর কুটু মিয়ার অমৃত রান্না খাওয়া। ঘটনাক্রমে হামিদার সাথে বিয়ে হয় আলাউদ্দিনের। আলাউদ্দিন তার রাধুনী কুটু মিয়া এবং তল্পিতল্পাসহ উঠেন হামিদার বাড়িতে। হামিদা ভুগতে থাকেন মানসিক যন্ত্রনায়। তার মনে হয় তিনি বিয়ে করে ঠিক করেননি। তিনি চলে যান মামার বাসায়। তার কাজের মেয়েটাকে সাথে নিয়েই।

 হামিদার বাসায় এখন শুধু আলাউদ্দিন আর কুটু ময়া। হামিদার বাসায় বাথটাব আছে। আলাউদ্দিনের এই জিনিসটারই অভাব ছিল। এখন নেই। চলতে থাকে অদ্ভুত জীবন- যাপন। কয়েকদিনের মধ্যে হামিদার বাসার সামনে কয়েকটা কুকুর দেখা যায়। হিংস্র কুকুর। অদ্ভুত ব্যাপার হল হামিদা মামার বাড়িতে থেকেও সেই কুকুর গুলোর আওয়াজ শুনতে পায়। হামিদা সাইক্রিয়াট্রিস্ট দেখায়।

 কুটু মিয়ার সাথে বাথটাবে শুয়ে গল্প করেন আলাউদ্দিন। কুটু মিয়া বলে তার মৃত্যু হয়েছিল জুম্মাবার। তার অদ্ভুত জীবনের কথা। বলে সেই পাইলট আর শেখের কথা। যারা মারা গিয়েছিল বাথটাবে শুয়েই। তাদের গায়ে ফোস্কার মত উঠত। আর সেই ফোসকায় কিলবিল করত ভয়ংকর পোকা। পোকাগুলো শেষে তাদের মাংস খেত। বিভৎস মৃত্যু হয় তাদের। আলাউদ্দিন সাহেবও তো এখন সারাদিন বাথটাবেই শুয়ে থাকেন।

তাহলে আলাউদ্দিন সাহেবরও কি সেই একই মৃত্যু হবে? নাকি বেচে যাবেন তিনি? হামিদা কুকুরের আর্তনাদের শুনতে পায় কেন? তার মাথা থেকে দূর হবে কি সেই আওয়াজ? সাইফুদ্দিন সাহেবের মৃত্যুর ব্যাখা কি? কুকুর গুলোই বা কেন এই বাসার চারিদিকে আছে? কে এই কুটু? কি তার অদ্ভুত জীবনের গল্প? জুম্মাবার যদি সে মারা গিয়েছিল তাহলে সে বাচল কিভাবে? সে কি সত্যিই বেচে আছে? এত কিছুর পিছনে কুটু মিয়ার হাত নেই তো? এতসব প্রশ্নের উত্তর জানতে পড়ে ফেলুন হুমায়ূন আহমেদের লেখা- “কুটু মিয়া”।

পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ অদ্ভুত একটা গল্প। অনেক ভালো লেগেছে। আমাদের চারদিকের অনেক কিছুর ব্যাখাই আমাদের জানা নেই। তেমনি একটি গল্প কুটু মিয়ার জীবন। অনেক ভালো লেগেছে। লেখক পাইলট সাহেব আর শেখের মৃত্যু ঘটনা শেষে দিয়ে গল্পের শেষটা অসাধরন করেছেন। শেষটা অনেক ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে ভালো একটা পড়ার উপযোগী বই।

বইয়ের বিবরণ

বইয়ের নামঃ কুটু মিয়া
লেখকঃ হুমায়ুন আহমেদ
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১১২ টি।
ক্যাটেগরিঃ ভুতের গল্পের বই, উপন্যাস বই
পিডিএফ সাইজঃ ৭ মেগাবাইট প্রায়।
রকমারি থেকে ক্রয় করার লিঙ্কঃ কুটু মিয়া বই

Download Now

#বইটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত। #লেখকের ক্ষতি আমাদের কাম্য নয়,  বইটির হার্ড কপি কেনার সমর্থ থাকলে বইটির হার্ড কপি কিনে পড়ুন।
#(আমাদের ব্লগের সমস্ত বইগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত। লেখকের বা প্রকাশনীর যদি কোনো বইয়ের PDF নিয়ে অভিযোগ থাকে তাহলে দয়াকরে জানান, আমাদেরকে জানানোর ২৪ ঘন্টার মধ্যে PDF টি রিমুভ করে দিবো।) ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ পোস্ট টি পড়ার জন্য।